গাজীপুর সাফারি পার্কে এক দিনের ব্যবধানে দুটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাতির আঘাতে গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সী ‘রাজু বাহাদুর’ নামে একটি হাতি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। অপর হাতিটির মৃত্যু হয়েছে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) হাতি দুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান। এর আগে গত ৭ আগস্ট সকালে রাজু বাহাদুর এবং আগের দিন গত ৬ আগস্ট অন্য হাতিটি মারা যায়।
তবে শ্রীপুর থানায় হাতির মৃত্যুর ঘটনায় জিডি করার পর বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, রাজু বাহাদুরকে সুস্থ করে তুলতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে গাজীপুর সাফারি পার্কে মোট আটটি হাতি রয়েছে। পরপর দুটি হাতির মৃত্যুতে পার্কের প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে হাতিশালায় শেকলে বাঁধা থাকা অবস্থায় রাজু বাহাদুরের ওপর চার বছর বয়সী হাতি ‘জয়িতা’ হামলা করে। এতে রাজু বাহাদুরের একটি পা গুরুতরভাবে ভেঙে যায়। পরে ক্রেনের সাহায্যে আহত হাতিটিকে সরিয়ে বালির ওপর রাখা হয়। এক্স-রে পরীক্ষায় তার পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। আহত হাতিটির চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একাধিক মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদের একটি দল পার্কে আসে। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হয়। দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলতে থাকে আহত ও অসুস্থ রাজু বাহাদুরের চিকিৎসা।
দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও নানা প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি হাতিটিকে। গত ৭ আগস্ট সকালে পার্কের হাতিশালায় রাজু বাহাদুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পার্ক কর্তৃপক্ষ থানায় জিডি করেন ৫ দিন পরে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট রাতে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ থাকা আরও একটি হাতির মৃত্যু হয়। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সাফারি পার্কে দুটি হাতির মৃত্যু হলো।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, হাতির দুটি মৃত্যুর পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তাদের দেহ থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হাতি দুটির মরদেহ পার্কের ভেতরেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।