মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নৌবাহিনীর ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে সেখানে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে গত ২০০ দিনে রণতরিটি কোনো বন্দরে থামেনি। দীর্ঘ সময় ধরে টানা মোতায়েন থাকায় এতে থাকা নাবিকদের জীবনযাত্রার মান ও কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

গত বছরের নভেম্বরে আব্রাহাম লিংকনকে মোতায়েন করা হয়। পরে জানুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আগে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। যুদ্ধের সময় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে রণতরি ও এর যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরপর ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন অবরোধ কার্যকর রাখার কাজেও এটি যুক্ত ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক অভিযানের কারণে রণতরিটির নাবিকেরা চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। তাদের জীবনযাত্রার মান ও কর্মপরিবেশ নিয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান হুং কাওয়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল রণতরিতে মৌলিক সামগ্রীর ঘাটতি, পানি দূষণ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকের নিরাপত্তা এবং ডাক ব্যবস্থায় বিঘ্নের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

তিনি আরও বলেন, রণতরিতে পাঠানো অনেক পার্সেল এবং পরিবারের পাঠানো প্রয়োজনীয় সামগ্রী পথে হারিয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে এসব সামগ্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

মার্কিন প্রতিনিধি মার্লিন স্টুটজম্যানও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সিএনএনকে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে নতুন তথ্য চাইবেন তিনি।

তার ভাষ্য, যারা দেশের সেবা করছেন, তাদের অন্তত এই নিশ্চয়তা পাওয়া উচিত যে তাদের যথাযথ যত্ন নেওয়া হচ্ছে।