গৃহবধূর দাঁত ভেঙে, চুল কেটে, যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়া, ব্লেড দিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান স্বামীর স্বজনেরা এই নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত বুধবার রাতে ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুনকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে অভিযুক্ত আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে গালিগালাজ করে কুলসুমের কাছ থেকে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিবাহের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে অভিযুক্ত রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এবং কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

একই সাথে হামলাকারীরা ঘরে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একই সাঙ্গে নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম চুরি করে নিয়ে যায়। একই সাঙ্গে ৩টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেয়। পরে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুলসুম বেগম বলেন,  তারা আমাকে ধরে মেরেছে। ২০ বছর ধরে আমি একা থাকতাম। দ্বিতীয় বিয়ের দিন আমি আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেই। ওই দিন আমার বর্তমান স্বামীর পরিবারের লোকজন এসে আমার ওপর অত্যাচার চালায়। তার বড় বউ এসে আমাকে ধরে। তারা সবাই মিলে আমার চুল কেটে দেয়। আমি এর বিচার চাই।

কুলসুমের স্বামী দারগালী বলেন, যারা আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করেছেন, তারা সম্পর্কে আমার মামাতো ভাই, আমার প্রথম স্ত্রী ও ছেলে। কেন বিয়ে করেছি এই জেদ ধরে তারা এভাবে অত্যাচার করেছে। আমি এখনো আমার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেইনি। তবে সেখান থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।