নবনির্মিত ভবন আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

হাজার শয্যায় উন্নীত নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের সম্প্রসারিত ৫০০ বেডের নতুন ভবন আজ শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই ৫০০ বেড নিয়ে বর্তমানে নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের বেড-সংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত হলো। দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশে এত বড় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনে প্রথম ৩০০ বেডের হাসপাতাল চালু করা হয়। ব্যাপক হারে রোগী আসতে থাকায় সুচিকিত্সা নিশ্চিত করতে পরে আরো ২০০ বেড বাড়ানো হয়। এখন নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনে আরো ৫০০ বেড বাড়ানো হলো।

রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে মাথায় আঘাত, স্ট্রোক, টিউমার, মৃগী রোগীসহ বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিক্যাল সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসে এই হাসপাতালে। পুরাতন ভবনে সব ধরনের অত্যাধুনিক চিকিত্সা ও অপারেশনসহ পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ধীরে ধীরে এই হাসপাতালটি অত্যাধুনিক চিকিত্সাসেবা ও পরীক্ষানিরীক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খ্যাতি অর্জন করে। যত দিন যায়, রোগীও ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে কমবেশি ৩ হাজার রোগী চিকিত্সার জন্য আসে। ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে প্রচুর রোগী উপস্থিত থাকে; যা সামাল দিতে ৫০০ বেডের হাসপাতালটিতে চিকিত্সক, নার্স ও কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছিল। পরে তত্কালীন সরকার ২০১৯ সালে ১৫ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। ২০২৫ সালে নতুন ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্থান্তর করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবনির্মিত ভবনটি মাটির নিচে তিন তলা এবং ওপরে ১২ তলা। সম্প্রসারিত ৫০০ বেডের এই অত্যাধুনিক হাসপাতাল ভবনটি আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নতুন এই হাসপাতাল ভবনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। নিউরোলজিক্যাল ল্যাবে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা রয়েছে; যা দিয়ে মাথা না কেটে রক্তনালির মাধ্যমে ব্রেনের অপারেশন করা সম্ভব। দুটি এমআরআই মেশিন এআই সংযোজিত উচ্চ প্রযুক্তি-সংবলিত। দুটি অত্যাধুনিক ডুয়েল সিটি স্ক্যান মেশিন দিয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে পরীক্ষা করা সম্ভব। এছাড়া আলট্রা সাউন্ড এক্সরেসহ সব ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষার যন্ত্রপাতি জার্মানির তৈরি সর্বশেষ প্রযুক্তির।

নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে এই নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের চিকিত্সাসেবার মান তুলনা করা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি এখন একমাত্র বৃহত্ নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল বলে তিনি জানান। এই ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সব মিলিয়ে ৫০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু শেষে ১৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।

নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে পরিচালক ও দেশের অন্যতম নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. নুরুজ্জামান খান খসরু বলেন, নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল-২ ভবন উদ্বোধনের পর নিউরোলজিক্যাল চিকিত্সাসেবার পরিধি দ্বিগুণ হবে। আগত রোগীরা দ্রুত ভর্তি, পরীক্ষা ও চিকিত্সাসেবা পাবে। নিউরোলজিক্যাল চিকিত্সাসেবা ব্যয়বহুল।  রোগীরা সরকারিভাবে বিনা মূল্যে এই ব্যয়বহুল চিকিত্সা পেয়ে থাকে। চিকিত্সা নিতে অনেকেই বিদেশে চলে যায়। সঙ্গে অর্থ পাচার হয়ে যায়। এটা রোধ করা সম্ভব বলে বলে তিনি জানান। তার মতে, পুরাতন আটটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আলাদা নিউরো সায়েন্সেস ওয়ার্ড আছে। এটার সঙ্গে মিনি ইনস্টিটিউট চালু করা যেতে পারে। ঢাকার বাইরে এই চিকিত্সাব্যবস্থা চাহিদার তুলনায় সীমিত। বিভাগীয় পর্যায়ে হাসপাতাল নিউরো সায়েন্সেস চিকিত্সা চালু করা যেতে পারে। সরকারি পর্যায়ে নিউরোলজিক্যাল চিকিত্সা বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের সঙ্গে বেসরকারি চিকিত্সা খাত পার্টনারশিপ করতে হবে। এভাবে এগোলে রোগীরা হাতের কাছে সুচিকিত্সা পাবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগারগাঁওয়ে নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ ও অধ্যাপক ডা. বদরুল আলমের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা পায়। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় অনেক চিকিত্সক ও প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে।