ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু সেঞ্চুরি ইনিংস হারের চোখরাঙানি থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বাঁচালেও ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেওয়া সফরকারীদের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের জন্য লক্ষ্য মাত্র ৫৭ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি ও হাসান মাহমুদের পেস তোপে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে গুটিয়ে গেলে এই সহজ লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম দেড় ঘণ্টায় স্পিন জাদুতে অ্যালেক্স ক্যারি (৩০), বেউ ওয়েবস্টার (৫) ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে (৮) ফিরিয়ে অজিদের কোণঠাসা করে দেন মিরাজ। ২০৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়ে স্বাগতিকেরা।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা লড়াই শুরু করেন ক্যামেরন গ্রিন। মিচেল স্টার্ককে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়েন। স্টার্ক ৩৪ বলে ১৮ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে লিটন দাসের ক্যাচ হয়ে ফিরলে ভাঙে ৪৩ রানের জুটি। এরপরও গ্রিনের দৃঢ়তায় মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ৯৫ রানের মাথায় তাসকিন আহমেদের বলে জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন।
তবে সেঞ্চুরির পর তাঁকে আর বেশি দূর এগোতে দেননি পেসার হাসান মাহমুদ। চতুর্থ দিনে প্রথমবার বল করতে এসে অফ স্টাম্প বরাবর দারুণ এক ডেলিভারিতে গ্রিনকে বোল্ড করেন তিনি। ২০১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৪ রান করে গ্রিন ফিরলে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান এই ইনিংসে পান ৩ উইকেট। ম্যাচে তাঁর মোট শিকার দাঁড়ায় ৯টিতে।
শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ। এর মাধ্যমে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন এই অফ স্পিনার। গ্রিনের সেঞ্চুরির সুবাদে অস্ট্রেলিয়া ৫৬ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের বড় লিড নিয়েছিল। এখন মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামবে বাংলাদেশ। এই রান করতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের অনন্য ইতিহাস গড়বে টাইগাররা।