হাওয়াইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন ‘লালা’, বিদ্যুৎহীন ৪২ হাজারের বেশি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের দিকে ধেয়ে আসছে ১ নম্বর ক্যাটাগরির হারিকেন ‘লালা’। এর প্রভাবে শনিবার থেকে অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে ৪২ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। এদিকে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

পাওয়ারআউটেজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বেলা দুইটা পর্যন্ত হাওয়াইয়ের ৪২ হাজার ৮৮৯ গ্রাহকের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ‘লালা’র প্রভাবে অতিভারী বৃষ্টিতে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও খাড়া ঢালু এলাকাগুলোতে এ ঝুঁকি বেশি।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাওয়াইয়ান ইলেকট্রিক জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক গ্রাহককে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হতে পারে। বিগ আইল্যান্ডের হামাকুয়া উপকূলে গাছ পড়ে বিদ্যুতের একাধিক খুঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪২ মাইল বা ৬৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের অবস্থা পর্যালোচনা করছেন কর্মীরা।

এর আগে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছিল, ‘লালা’র সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বা ১২০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এর ফলে এটি ১ নম্বর ক্যাটাগরির হারিকেনে পরিণত হয়।

বিগ আইল্যান্ডের মাউনাকেয়া ওয়েদার সেন্টারে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের গতি তুলনামূলক কম ছিল।

হারিকেনটির প্রভাবে হাওয়াইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এনএইচসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিগ আইল্যান্ডে ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি (২৫ দশমিক ৪ থেকে ৫১ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পূর্ব মাউইয়ে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি এবং পশ্চিম মাউইয়ে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

অতিভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হারিকেনের প্রভাবে হাওয়াইয়ের যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হাওয়াই পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শনিবার বেলা দুইটা থেকে এলিসন ওনিজুকা কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ করা হয়।

এদিকে হাওয়াই দ্বীপ, মাউই কাউন্টি ও কাউয়াইয়ের বাণিজ্যিক বন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

হারিকেনটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে হাওয়াইয়ের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাওয়াইয়ান ইলেকট্রিক গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।