অটোপাসের সুযোগ আর ফিরে আসবে না: হুইপ আখতারুজ্জামান

‘অটোপাসের সুযোগ আর ফিরে আসবে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া।তিনি বলেন, বইয়ের বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়া থাকলে পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন মনে হবে না। আর না পড়লে সহজ প্রশ্নও কঠিন মনে হবে। ‘না পড়ে পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হলে জাতি ধ্বংস হবে। আমরা সেই জায়গায় আর ফিরতে চাই না। সবাইকে পড়াশোনা করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।’

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জমিদারনগরে শাপলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহের বিষয়ে সচেতন করে তিনি বলেন, মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষাজীবন শেষ করে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষকদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, শুধু বেতন পাওয়ার জন্য দায়িত্ব পালন করলে হবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষকদের নিতে হবে। মাস শেষে বেতন নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানো এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করতে আন্তরিক হতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল না করলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা বা জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তাদের মেধার বিকাশে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘শুধু মাস যাবে, মাসের বেতন পাব—এভাবে চলবে না। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানোর দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা কেন ভালো ফলাফল করতে পারছে না, সেই জায়গাটি খুঁজে বের করতে হবে।’

শিক্ষা খাতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে হুইপ বলেন, সরকারের বিনিয়োগের বিপরীতে যদি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোথাও একটা ঘাটতি আছে। সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। শিক্ষকরা যদি আন্তরিকভাবে পড়ান এবং শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পড়ে, তাহলে ভালো ফলাফল করা কঠিন নয়।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ বলেন, বাবা-মা সন্তানদের পড়াশোনার পেছনে অর্থ ব্যয় করছেন। তাই শিক্ষার্থীদেরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। বাবা-মায়ের সুনাম ও সম্মান রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করতে হবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটিকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শাপলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মেরিনা খাতুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সরকার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ভাবকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল আলম তুহিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাঈয়েদ আহমেদ সেলিম বুলবুল এবং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে।

পরে হুইপ নবনির্মিত আইসিটি ল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে আয়োজিত র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।