হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। দেশটির মেজোকোভেসদ শহরের কাছে সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশে যাওয়া একটি পর্যটকবাহী বাস রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাজিয়ার সকালে ফেসবুকে এ খবর জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমটিআই জানায়, বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুইজন চালক ছিলেন। বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে একপাশে কাত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, লাল রঙের বাসটির জানালা ভেঙে গেছে, আশপাশে যাত্রীদের ব্যাগ ও স্যুটকেস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা যান। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানায়, আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। বাসের ভেতরে আটকে পড়া কয়েকজনকে জানালা দিয়ে টেনে বের করতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধার করেন।
পুলিশের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এম-৩ মহাসড়কে নিয়েরেজহাজা শহরের দিকে যাওয়ার সময় পোল্যান্ডের নিবন্ধিত বাসটি সোজা রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে চালক সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। চালককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি এক্সে লিখেছেন, কনস্যুলার সেবা চালু রয়েছে এবং হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাচাই করা তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে প্রকাশ করবে। প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি এ ঘটনাকে মর্মান্তিক আখ্যা দিয়ে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
২০০৩ সালের পর হাঙ্গেরিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা। সেবার শিওফোকে ট্রেনের ধাক্কায় জার্মান পর্যটকবাহী একটি বাসে ৩৩ জন নিহত হয়েছিলেন।