অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৯ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় আসতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ড। প্রবাসী বাংলাদেশিদের লাল-সবুজ পতাকায় ডারউইন তখন যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। ক্রিকেট ইতিহাসের এই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত দেশের কোটি দর্শকও উপভোগ করেছেন ঠিকই, তবে দেশের কোনো টিভি চ্যানেলে নয়। আক্ষেপের বিষয় হলো, নিজ দেশের এমন ঐতিহাসিক জয়টি দেশের দর্শকদের দেখতে হয়েছে ভিনদেশি টিভি চ্যানেল ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।
ডারউইন টেস্ট শুরুর আগের দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফেসবুকে জানিয়ে দেয়, কোথায় কোথায় দেখানো হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সেখানে ছিল না টি স্পোর্টসের নাম। যারা বাংলাদেশের ক্রিকেট-ফুটবলের ম্যাচ যেখানেই হোক না কেন, সম্প্রচার করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটপ্রেমীরা খেলা দেখেছেন ভারতীয় স্টার স্পোর্টস ওয়ানে। এমনকি ট্যাপম্যাডে সাবস্ক্রাইব করেও দেখতে হয়েছে খেলা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হক-হাসান মাহমুদদের ৯ উইকেটের জয়ের পর তামিম কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। দেশের কোনো টিভিতে খেলা না দেখানোর বিষয়টিও জিজ্ঞেস করা হয়েছে বিসিবি সভাপতিকে। উত্তরে তামিম বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত বিস্তারিত শেয়ার করতে পারব না। এখানে অন্য একটা টেকনিক্যাল ব্যাপার ছিল। স্বত্বটা হলো অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়া কাকে দেবে, কাকে বিক্রি করবে, কী চুক্তি হবে, না হবে, এটা অস্ট্রেলিয়াই সিদ্ধান্ত নেবে।’
যেহেতু এখানে আয়োজক অস্ট্রেলিয়া, এখানে তাই বিসিবির সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লেখ করেছেন তামিম। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘যেমন আমরা যখন আয়োজন করি, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে কাকে দেব, কাকে দেব না। এটা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এখানে সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপর দিয়ে দিলে জিনিসটা ভুল হবে।’
বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকেরা দেশীয় কোনো টিভিতে দেখতে না পাওয়ায় হতাশা কাজ করছে তামিমেরও। বিসিবি সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তবে অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, যেহেতু আমাদের বাংলাদেশে ক্রিকেটের অনেক ফলোয়ার্স আছেন, সেক্ষেত্রে আমরা আশা করতেই পারি যে আমাদের চ্যানেলে দেখাক। তবে আবারও বলছি, এখানে তারা পার্টনার। একজনের নাম না, অনেকেই আমাদের পার্টনার। তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে যাতে এই জিনিসগুলো সামনে আরও সুন্দরভাবে করা যায়।’
অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।