শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, বিক্ষোভ

ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুন।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে হলের শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্ট কার্যালয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান গ্রহণ করেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

এ সময় ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ইসতাফিল রতন, হলের হাউজ টিউটর, ডাকসুর ক্যারিয়ার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক, হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ হলের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত রয়েছেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘মামুনের রক্ষা নাই, ১২৩৪; মামুন তুই গদি ছাড়’ ‘প্রক্টর না আশরাফুল, আশরাফুল আশরাফুল,’ ‘দফা এক দাবি এক প্রভোস্টের পদত্যাগ,’ ‘এক দফা এক দাবি, মামুন তুই এখন যাবি’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, হলের নির্লজ্জ প্রভোস্ট রুমে ডেকে ২০-২১ সেশনের এক স্টুডেন্টকে শারীরিক মানসিক ভাবে নির্যাতন করেছে। আমরা এখন প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিতে এসে সন্ধ্যা থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও দিচ্ছে না প্রশাসন।

ফজলুল হক মুসলিম হলের জিএস বলেন, আমরা ৪-৫ ঘণ্টা ধরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু হল প্রশাসন ফুটেজ নিয়ে তালবাহানা শুরু করেছে। এখন দাবি একটাই প্রভোস্টের পদত্যাগ।

জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হলের বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট শেয়ার করায় এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে মানসিকভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. ইব্রাহীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

তবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন। তিনি বলেন, দেড় ঘণ্টা মানসিক নির্যাতন কীভাবে করে? আর শারীরিক নির্যাতন—বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলেকে কি মারধর করা যায়? এটা কেমন কথা?