দায়িত্বে দক্ষতার ছাপ: আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আলোচনায় আসাদুল হাবিব দুলু

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সক্রিয়তা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন—কাজের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এই নেতা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে আসাদুল হাবিব দুলু একটি পরিচিত নাম। লালমনিরহাট-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এর আগে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্র, পুনর্বাসন, পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন দুলু। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট।

তিস্তা এখন বড় পরীক্ষা
দুলুর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তিস্তা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত। উত্তরাঞ্চলের বন্যা, নদীভাঙন, কৃষি ও অর্থনীতির সঙ্গে তিস্তার সম্পর্ক সরাসরি। ফলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা তাঁর জন্য শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিশ্রুতি।

১৫ আগস্ট তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষা শেষে আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এখন প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি এবার তিনি সরকারের ভেতর থেকে কতটা বাস্তবায়নে নিতে পারেন?

কারণ তিস্তা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া আর একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া এক বিষয় নয়।

উত্তরাঞ্চলের প্রত্যাশা
লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দুলুর অন্যতম শক্তি। তিস্তা, নদীভাঙন, বন্যা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক বৈষম্যের মতো ইস্যুতে তাঁর সক্রিয়তা তাঁকে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

এখন তিনি এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে, যার সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন ও দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয় সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে তাঁর ওপর প্রত্যাশাও বেশি।

তবে প্রত্যাশা আর অর্জনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তার রাজনৈতিক মূল্যায়নের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হবে দৃশ্যমান ফলাফল—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিবর্তন, ত্রাণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পুনর্বাসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি।

আরও বড় দায়িত্বের আলোচনা
সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। সেই আলোচনায় দুলুর নামও আসছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সরকারের দায়িত্ব পালনের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান মন্ত্রণালয়ে সক্রিয়তার কারণে তাকে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তার রাজনৈতিক অনুসারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে।

তবে এটি এখনো রাজনৈতিক আলোচনা; কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।

শেষ কথা
দুলুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পদ নয়, কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে সুযোগ দিয়েছে, আর বর্তমান মন্ত্রণালয় দিয়েছে সক্ষমতা দেখানোর ক্ষেত্র। তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কতটা সফল হন—সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে জাতীয় রাজনীতিতে তার পরবর্তী অবস্থান।

রাজনীতিতে বড় দায়িত্বের জন্য অভিজ্ঞতা প্রয়োজন; কিন্তু সেই দায়িত্ব ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন দৃশ্যমান সাফল্য।