সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান নাহিদের

সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে থাকা বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ বেশ কিছু ভালো নীতি ও সুপারিশ ছিল। এগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’

সোমবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি-সংশ্লিষ্ট সংগঠন ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিকেরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সাংবাদিকেরা নানা উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। মফস্সলের সাংবাদিক, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক ও নাগরিক সাংবাদিকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের হতাশা স্বীকার করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলেছেন। সেই সময়ের হতাশা আমাদেরও আছে। অনেক কিছু করা সম্ভব ছিল, কিন্তু অনেক কিছু আমাদের করতে দেওয়া হয়নি। আপনাদের সব সমালোচনা আমি সাদরে গ্রহণ করি। 

তিনি বলেন, ‘আমি সাত মাস দায়িত্বে ছিলাম। এই সাত মাস কোনো স্বাভাবিক সময় ছিল না। তখন পুরো দেশকে স্থিতিশীল করতে আমাদের সব শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করতে হয়েছে। তারপরও আমি মনে করি, ওই সময়ে আমাদের কিছু কাজ করার সুযোগ ছিল। বিশেষ করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকার গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। ফলে এখন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের দাবিগুলো আমরা বলতেও প্রায় ভুলে গিয়েছি।’

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ বেশ কিছু ভালো নীতি ও সুপারিশ ছিল। এগুলো বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব থাকা উচিত নয়। মালিকপক্ষ, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের স্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রভাবও গণমাধ্যমে কাজ করে। এসব প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।’