দেশের বিভিন্ন নেতিবাচক খবরে আমরা যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন বাংলাদেশে ক্রিকেট দল আমাদের এমন একটি সুখবর জানাইয়া দিল যাহাতে বিস্ময়ের ঘোর এখনো কাটিতেছে না। এই খবর সকল প্রকার হতাশাকে কাটাইয়া জাতি হিসাবে আমাদের আজ যথেষ্ট আশাবাদী ও উজ্জীবিত করিয়া তুলিয়াছে। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে জাতীয় টেস্ট ক্রিকেট দল যে গৌরবসূচক বিজয় লাভ করিয়াছে, তাহা এক কথায় অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয়। স্কোর বোর্ডে দেখা যায় : অস্ট্রেলিয়া—১৯৮ ও ২৮৪ এবং বাংলাদেশ–৪২৬ ও ৫৭/১। ফলে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী। কী সুখকর এই স্কোর বোর্ড ! এই টেস্টের পূর্বে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হইয়া গোহারা হারে বাংলাদেশ। হার দিয়া সফর শুরু করিয়া কীভাবে বিশাল ব্যবধানে টেস্ট ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব তাহা লইয়া এখনো চলিতেছে গবেষণা। এক কথায় বিশ্বের তাবৎ ক্রিকেট-আমোদীকে তাক লাগাইয়া দিয়াছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বৎসর পর খেলিতে যাইয়া বাংলাদেশ যে বাজিমাত করিয়াছে, তাহাতে আমাদের সম্পর্কে সমগ্র বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাইয়া গিয়াছে। উষ্ণ অভিনন্দন বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট টিমকে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, কোচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে যাহারা এই জয়ের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন করিয়াছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের এই বিশাল বিজয় সত্যি এক নজিরবিহীন ঘটনা। কেননা অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে থাকা দল। এই দলে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো তারকাদের পূর্ণ শক্তির আক্রমণকে তুড়ি মারিয়া উড়াইয়া দিয়া তাহাদের যেইভাবে ধরাশয়ী করিয়াছে, তাহা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক উজ্জ্বল মাইলফলক ও সবচাইতে বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইহাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং ইহার কল্যাণে বাংলাদেশ এখন আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-২৭-এর পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে চলিয়া গিয়াছে। বাংলাদেশের নিচে রহিয়াছে ভারত, পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মতো দেশ। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার এই পরাজয় দেশটির ১৪৯ বৎসরের টেস্ট ইতিহাসে সবচাইতে বিব্রতকর ঘটনা। বাংলাদেশের এই জয়ে বড় অবদান রাখেন দুই বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তাহারা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংলাইনে ধস নামান। বিশেষ করিয়া, অলরাউন্ডার মিরাজ প্রথম ইনিংসে ৬৫ রান করিবার পাশাপাশি দুই ইনিংসে বল হাতে শিকার করিয়াছেন ৮ উইকেট। হাসান মাহমুদ এই টেস্টে ১১১ রান দিয়া ৯ উইকেট লইয়া ইতিহাস সৃষ্টি করিয়াছেন। আর তরুণ ওপেনার ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান তামিমের অনবদ্য প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এই জয়ে পালন করিয়াছে নিয়ামক ভূমিকা। সকল মিলাইয়া খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হইয়াছে এই বিজয়ের গৌরবগাথা। এই জন্য অধিনায়ক বলিয়াছেন যে, এই টেস্টে বাংলাদেশের সকল ক্রিকেটারই ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ঢাকার মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম বারের মতো টেস্ট জিতিয়াছিল বাংলাদেশ: কিন্তু টেস্ট সিরিজ জেতা হয় নাই। এই বার খোদ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া প্রথম বিশাল জয়ের পর বাংলাদেশের সম্মুখে এখন বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি দিতেছে। এইবার কি আরেক ইতিহাস রচনা করিতে পারিবে বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে শুরু হইবে দ্বিতীয় টেস্ট। সেই টেস্টের অপেক্ষায় বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা। জয়তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুভ কামনা নিরন্তর।