রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোটের লড়াই হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়। নির্ধারিত সময় শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
এ সময় তিনি বৃহস্পতিবারের ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি ও ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর মাঝে সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে। বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্য ৯০ জন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোট গ্রহণ হবে। আজই নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ভোট গ্রহণের দিন শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোট গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবেন।
ইসি সচিব আরও বলেন, ব্যালট পেপারের দুটো অংশ—একটা মুড়ি অংশ, আরেকটা ব্যালট পেপার অংশ। মুড়ি অংশে থাকে তিনটা তথ্য। এগুলো হচ্ছে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং তার বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে। নামের ডান পাশে খালি (স্পেস) জায়গায় সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে তারা ব্যালট পেপার জমা দেবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে।
ইসি সচিব জানান, ৫টার পর ব্যালট গণনা করা হবে। ব্যালটের রং হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।
সংরক্ষিত নারীসহ সংসদে ভোট আসন বা সদস্যসংখ্যা ৩৫০। বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্যপদ বাতিল করেছেন আদালত। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে। ফলে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত। তবু দুজন প্রার্থী থাকায় তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণ করা হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।