ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া পুলিশ লাইন্সের মেইন গেইটে দায়িত্ব পালনকারী ৩ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম।
জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন, পুলিশ লাইন্সের মেইন গেইটে দায়িত্বপালনকারী ৩ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেলার বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামীয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় দুপক্ষের মধ্যে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে হামলায় পণ্ড হয়ে যায় জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিচার্জ ও পাল্টা হামলায় মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী-পুলিশসহ ৩৫ আহত হয়েছে। আহতদের জেলা সদর হাসপাতাল, ঘাটুরার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর স্ত্রী পুনাক উপদেষ্টা সিদারাতুল মুনতাহার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরে তার স্ত্রীও সঙ্গে আসেন।
জাসাসের সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি হচ্ছিলো। এতে উচ্চস্বরে গান বাজনা হওয়াতে পার্শ্ববর্তী ‘দারুল আরকাম মাদরাসার’ শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে উচ্চস্বর কমাতে বলে। এনিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করে। সেসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে লাঠিচার্জ করে। মাদ্রাসা ছাত্ররাও পাল্টা ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী পুলিশসহ ৩০ জন আহত হন।
ঘটনার পর দারুল আরকাম মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাদের মাদ্রাসায় পরীক্ষা রয়েছে। গান বাজনার উচ্চস্বরে তাদের সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে তারা কয়েকজন পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গিয়ে উচ্চস্বর কমানোর জন্য বলেন। প্রথমে উচ্চস্বরে কমালেও পরে তারা আবারও উচ্চস্বর বাড়িয়ে দেয়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসার ছাত্রদের বাদানুবাদ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে মাদ্রাসাছাত্রদের আহত করে। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পরে রাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বড় মাদ্রাসার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়ায় গভীররাতে দুপক্ষের বৈঠকে জেলার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানান বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজত ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।