সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনা রোধে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদনহীন স্লিপার বাস এবং ফিটনেসবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কারিগরি নীতিমালার ব্যত্যয় ও ফিটনেস সনদ না থাকায় পাঁচটি বিলাসবহুল বাসের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেল ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ খান জানান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী খেলাপি ও অবৈধ মোটরযানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এফ এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অনুমোদনহীনভাবে আসনবিন্যাস ও কাঠামোগত রূপান্তর (মডিফিকেশন) করা এবং ফিটনেস সনদ না থাকার দায়ে লন্ডন এক্সপ্রেস, দোয়েল এক্সপ্রেস, সেন্টমার্টিন পরিবহন ও ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসসহ পাঁচটি দূরপাল্লার বিলাসবহুল বাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্ট পরিবহনগুলোর কাছ থেকে জরিমানার ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো মোটরযানের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, সিট বিন্যাস কিংবা মূল অবয়ব পরিবর্তন করা সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। সম্প্রতি অনেক পরিবহন কোম্পানি আইনের তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাধারণ বাসকে স্লিপার বাসে রূপান্তর করে যাত্রী পরিবহন করছিল, যা মহাসড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
এদিকে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে একই দিনে কক্সবাজার পৌরসভার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসায় একটি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে বিআরটিএ। ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক পারাপার, ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা এবং চালক ও পথচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জানে আলম, সহকারী মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ ইউছুফ এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রহমত সালাম। সভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে ট্রাফিক সাইনসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।