জাবিকে দেশের প্রথম প্লাস্টিকমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করার আহ্বান 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে (জাবি) দেশের প্রথম প্লাস্টিকমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুরু করতে পারে, আমরা হয়ত সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিতে পারি—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)  বিকালে জাবির সিনেট ভবন  আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্র্যাকটিসেস ইন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক টেকসই প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্যাম্পেইনের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)-এর কারিগরি সহায়তা এবং নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ কামরুল আহসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, ইউনিডো’র বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলমগীর হোসাইন, ইউনিডো’র ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সত্য ভট্টাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে ধীরে ধীরে তা বন্ধ করতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, “শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না; সিদ্ধান্ত বাস্তবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও নাগরিকদের নিতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, পরিচ্ছন্ন ও প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসে কার্যকর ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, জনসচেতনতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ইউনিডো (UNIDO) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলমগীর হোসাইন প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্প উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ইউনিডো অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, একটি সার্কুলার অর্থনীতির দিকে রূপান্তরের জন্য প্লাস্টিকের পুরো সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন—পণ্যের নকশা ও উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহার, সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পুনরুদ্ধার পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উদ্ভাবনী সমাধান প্রদর্শন, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তরুণ সমাজ ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আচরণগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘নীড়’-এর উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করা সম্ভব নয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও ইউনিটকে নিজ নিজ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।