দুই ছাত্র সংগঠনের মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর

এবিভিপি ও এসএফআইয়ের পৃথক মিছিলকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। দুই ছাত্র সংগঠনের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ দুই পক্ষের মিছিল আটকে দেয়।

এইট বি বাসস্ট্যান্ডের সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে ও যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। অন্যদিকে, ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাছে এবিভিপির মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় সংগঠনটির কয়েকজন সদস্য ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এরই মধ্যে সকাল থেকে এইট বি এলাকায় জড়ো হওয়া এবিভিপির কয়েকজন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছে সংগঠনের পতাকা ওড়ান। এর প্রতিবাদ করেন বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসুর গভর্নিং বডির বৈঠক থেকে অশান্তির সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন আচমকা ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপির কয়েকজন সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালায়। প্রশ্ন তোলা হয়, যেখানে ছাত্র সংগঠনই আর নেই, সেখানে কীসের জিবি বৈঠক? প্রশ্ন শুনে রেগতে যান ফেটসুর সদস্যরা। পরে তারা এবিভিপি সদস্যদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই অশান্তি ঘিরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালেই কর্মসূচির ডাক দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। পালটা মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করে এবিভিপিও। দুপুরে দু’পক্ষের জমায়েত ও মিছিল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে তুমুল উত্তেজনা।

এদিন সকাল থেকে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে এবিভিপির কয়েকজন সদস্য জমায়েত করেছিলেন। কিন্তু তাদের মূল কর্মসূচি ছিল গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মিছিল।

অন্যদিকে, দেবাঞ্জন দে’র নেতৃত্বে এসএফআইয়ের সদস্যরা এইট বি’তে জড়ো হন। তারা সেখানেই স্লোগান দিতে থাকেন। দু’পক্ষের মিছিলে অশান্তি রুখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসনও।

দুপুরে এবিভিপির মিছিল গোলপার্ক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রওনা দিলে পুলিশ ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাছে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। ব্যারিকেড ভেঙেই তারা মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে, এইট বি থেকে এসএফআই-ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে মিছিল করে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে পড়ে। আবার এবিভিপির যে সদস্যরা এইট বি-তে ছিলেন, তাঁরা সরাসরি হেঁটে পৌঁছে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নং গেটের কাছে। গেটে উঠে নিজেদের সংগঠনের পতাকা তুলে ফেলেন।