চলছে রবিউল আউয়াল মাস, যা মানব ইতিহাসের এক মহিমান্বিত ও স্মরণীয় মাস। এই মাসেই বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত, সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রসুল, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভ জন্ম হয়। তার আগমনে মানবজাতি পেয়েছে সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মুক্তির চিরন্তন দিশা।
প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে এই রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ, সোমবার সুবহে সাদিকের সময়, আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সম্মানিত কুরাইশ বংশে মা আমিনা (রা.)-এর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন মহানবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার আগমনের পূর্বে আরব ছিল অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও নৈতিক অধঃপতনের অন্ধকারে নিমজ্জিত। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, হত্যা, লুটতরাজ, অবিচার ও বিশৃঙ্খলা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। সমাজে নারী ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত। মানুষ এক আল্লাহর ইবাদত থেকে বিচ্যুত হয়ে লাত, মানাত, উজ্জাসহ নানা মূর্তির পূজায় লিপ্ত হয়েছিল। ইতিহাসে সে সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত নামে অভিহিত করা হয়।
এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে মহান আল্লাহ-তায়ালা সমগ্র মানবজাতির হেদায়াতের জন্য তার সর্বশেষ রসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেন। আল্লাহ-তায়ালা ইরশাদ করেন: 'আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি (সুরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)।'
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের হৃদয় থেকে শিরক, কুসংস্কার ও অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে তাওহিদের আলো প্রজ্বলিত করেন। তিনি বিভক্ত জাতিকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, নারীকে মর্যাদা প্রদান করেন, দুর্বল ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেন এবং একটি আদর্শ মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মানবজাতিকে এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা উপহার দিয়েছেন, যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব স্তরের জন্য কল্যাণকর। তার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেই যুগে যুগে মানুষ মুক্তি, শান্তি ও সফলতার সন্ধান পেয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এ পথই মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
লেখক: সদস্য, ইসলামি গবেষণা পরিষদ বাংলাদেশ