নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বীর ওপর হামলা ও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাহাগিলি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। শুক্রবার সকালে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ থানার মামলা নম্বর ২২, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬। মামলায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ১৮৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।’
মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এসিল্যান্ডের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ থানার ওসির কাছে এজাহার দাখিল করি। তিনি সবকিছু পর্যালোচনা করে শুক্রবার সকালে মামলাটি নথিভুক্ত করেন।’
এর আগে বুধবার বিকেল ৬টার দিকে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামে চাঁড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলা ও অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বীর নেতৃত্বে অভিযানে ভূমি অফিসের চারজন কর্মচারী ও চারজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের শতাধিক নারী-পুরুষ তাদের ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় বালুবোঝাই একটি মাহিন্দ্র ট্রাক্টর জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জাহান তন্বী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, বাহাগিলি ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি বাজারের পূর্ব দিকে সিনহা কোম্পানির সংলগ্ন এলাকায় চাঁড়ালকাঁটা নদী থেকে ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করে মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে পরিবহন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চার পুলিশ সদস্য ও ভূমি অফিসের চারজন কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে বালু পরিবহন করতে দেখা যায়। বালুবোঝাই ট্রাক্টরগুলো আটকানোর চেষ্টা করলে দুটি ট্রলি নিয়ে চালকেরা পালিয়ে যায়।
তনিমা জাহান তন্বী আরও বলেন, একটি বালুবোঝাই ট্রাক্টরের সামনে অবস্থান নেওয়ার সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত লোকজন তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে শতাধিক নারী-পুরুষ তাদের ঘেরাও করে রাখে। এ সময় তারা বালুবোঝাই ট্রাক্টর ছেড়ে না দিলে সরকারি গাড়িও ছাড়বে না বলে হুমকি দেয়। পরে তারা তার সরকারি গাড়ির সামনে বসে ও শুয়ে অবস্থান নেয়।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কিশোরগঞ্জ থানার ওসিকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকেসহ অভিযানে থাকা অন্যদের উদ্ধার করে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তনিমা জাহান তন্বী বলেন, ‘আমার পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে বাসায় রেখে অভিযানে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলাম। বাসায় আমার সন্তান কান্না থামাচ্ছিল না। চাকরিজীবনে এর আগে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণে ‘বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান, এসিল্যান্ড-পুলিশসহ ৮ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ’ শিরোনামে এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।