ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নাসরিন সুলতানা (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। চার দিন ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত নাসরিন সুলতানা ভাঙ্গা পৌরসভার চৌধুরীকান্দা সদরদী এলাকার মিরাজ শেখের স্ত্রী।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরের তীব্র ব্যথা নিয়ে নাসরিন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসকদের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই দিনই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় নাসরিনকে। তবে তার জ্বর বাড়তে থাকে এবং রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। শুক্রবার দুপুরের দিকে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রথমদিকে নাসরিনের জ্বরকে সাধারণ মৌসুমি জ্বর মনে করা হয়েছিল। পরে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে গৃহবধূর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভাঙ্গা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যথাযথভাবে না হওয়ায় এলাকায় এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে। তারা নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নাসরিন সুলতানা নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।