জামায়াত এমপির নারী কেলেঙ্কারি

গাড়িচালকের কাছে ধরা পড়ার পর গাজী নজরুলের প্রস্তাব, ‘পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে’

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যান তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। তার দাবি, এ ঘটনা জানার পর তাকে প্রলোভন দেখিয়ে গাজী নজরুল আশ্বাস দেন, ৫ বছর তার সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওবায়দুর রহমান। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি এবং হামলার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারীর পাশাপাশি গাড়িচালকের দায়িত্ব পালন করতেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম

কিছুদিন আগে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ভিডিওতে তার সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ওই তরুণীর আত্মীয় ওবায়দুর রহমান।

এ ঘটনায় গাজী নজরুল অভিযোগ করেছিলেন, গত ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। একই সঙ্গে ভিডিওটি ওবায়দুরই ফাঁস করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তখন গাজী নজরুল প্রথমে তাকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি গাড়িচালকের চাকরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়। অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা এবং অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি গাড়িচালকের কাজ নেন বলে দাবি করেন।

সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম

ওবায়দুর বলেন, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় গাজী নজরুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর দাবি করেন, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। তখন গাজী নজরুলও সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর।

ওবায়দুরের ভাষ্য, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তাকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়। তবে তিনি টাকা নেননি বলে জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ওবায়দুর বলেন, ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দেখা হয়।

ওবায়দুরের দাবি, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তার ওপর হামলা চালান এবং তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।

ওই ঘটনার পর গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে জানান ওবায়দুর। তার দাবি, পরে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আদালত তাদের জামিন দেন।

এর মধ্যে গত ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তার বোন এবং ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার মা ও পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

ওবায়দুর রহমান এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।