কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের দ্রুত সমুদ্র থেকে সরিয়ে স্থলভাগের কোনো হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা শনিবার (২২ আগস্ট) বলেছেন, আটক পাইলটদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তি অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ বলেন, পাইলটদের বর্তমানে যে স্থানে রাখা হয়েছে, সেটি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। তাদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাঘেরজাদেহ বলেন, অসুস্থ ও আহত বন্দিদের ইরানে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কাতারে একটি ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে গত সপ্তাহে কাতার তাদের হেফাজতে কোনো ইরানি পাইলট থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। দোহার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বছরের শুরুতে ওই পাইলটরা কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কাতার আরও জানায়, নিহত এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পাশাপাশি কাতারের পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার জন্য তেহরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তখন ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, পাইলটদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধি দলকে কাতার সফরের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
এদিকে সর্বশেষ বিবৃতিতে বাঘেরজাদেহ ইরানি বিশেষজ্ঞ দলকে কাতারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে দোহার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে কাতারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তবে ইরানের এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দেশটির বিমান বাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ ও তথ্যানুসন্ধানকারী দল কয়েক মাস ধরে কাতারে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কাতারি কর্মকর্তাদের কারণে তদন্ত কার্যক্রম বারবার বিলম্বিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।