মাউন্ট ফুজিতে সাত বছরের ছেলেকে একা ফেলে গেলেন বাবা

জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে এক বাবা তার সাত বছরের ছেলেকে একা ফেলে চলে গিয়েছেন। শিশুটির কাছে ছিল শুধু এক বোতল কোমল পানীয় আর কিছু হালকা স্ন্যাকস। কুয়াশা আর বৃষ্টির মধ্যে দুই হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় এক বেঞ্চে সে একা বসে ছিল।

বৃহস্পতিবারের (২০ আগস্ট) স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শিশুটি ক্লান্ত বোধ করলে ৪৮ বছর বয়সী বাবা তাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে বলে বড় ছেলেকে নিয়ে আরোহণ চালিয়ে যান।

ষষ্ঠ স্টেশনের কাছের মাউন্টেন হাটের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখে পুলিশকে খবর দেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গা থেকে বাবাকে খুঁজে পাওয়া যায়। শিশুটির অবস্থান থেকে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা হাঁটার পথ।

প্রায় আট ঘণ্টা পর বাবার সঙ্গে দেখা হলে শিশুটি ক্লান্ত ও বিরক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

উঁচু স্টেশন থেকে ফিরে আসার পর পুলিশ বাবাকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। জাপান টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনা বাতিল করতে হলেও একটি শিশুকে এভাবে পেছনে ফেলে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাবা তার এই সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

পরিবারটি ফুজিনোমিয়া রুট ধরে আরোহণ করছিল। এই রুট পঞ্চম স্টেশন থেকে শুরু হয়, যেখানে গণপরিবহনে সহজে যাওয়া যায়। গাইডদের মতে, সেখান থেকে চূড়ায় উঠতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আর নামতে আরও তিন ঘণ্টা লাগে।

৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উঁচু এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে ৯৯ বছর বয়সী এক নারী এই রুটে উঠতে গিয়ে পড়ে কোমর ও পিঠে আঘাত পান। গত বছর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হারানো মোবাইল খুঁজতে গিয়ে চার দিনের মধ্যে দুবার আটকে পড়েন।

টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মাউন্ট ফুজি ২০১৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়। জাপানের তিনটি পবিত্র পর্বতের অন্যতম এটি। প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ এখানে আরোহণ করেন। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে কিছু রুটে এখন দৈনিক সীমিত সংখ্যক পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।