থাইল্যান্ডের দক্ষিণে একযোগে ৫০ স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলা

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংঘাতকবলিত এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে রোববার (২৩ আগস্ট) দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, এ সমন্বিত অগ্নিসংযোগে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা স্থানীয় সরকারি ভবন, দোকানপাট এবং চুরি করা একটি গাড়িসহ একাধিক জায়গায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি হামলার খবর পাওয়া গেছে নারাথিওয়াত প্রদেশ থেকে। পাশের ইয়ালা ও পাত্তানি এলাকাতেও কয়েকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে, নারাথিওয়াতের মুয়াং জেলায় বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী আহত হয়েছেন।

কয়েকটি স্থানে টেলিযোগাযোগ টাওয়ারেও আগুন দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন, কোনো সন্দেহজনক বস্তুতে হাত না দিতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারাথিওয়াতে রাতভর সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছিল, যা রোববার সকালে প্রত্যাহার করা হয়। রোববার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে। ২০০৪ সাল থেকে চলা এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

বিদ্রোহীদের এ তৎপরতা মূলত বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিচালনা করে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হলেও সরকার পরিবর্তন ও উভয়পক্ষের অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া বারবার থমকে গেছে।

গত জুলাইয়ে নারাথিওয়াতের একটি তল্লাশি চৌকিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনাসদস্য নিহত হন। এ হামলার পর নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

থাই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সশস্ত্র বিদ্রোহীরা প্রায়ই নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে। অনেক সময় ওই অঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তাদের সফরের আগেই এ ধরনের হামলা হয়।

বিনিয়োগ প্রকল্প, বন্যা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী সপ্তাহে দক্ষিণের সোংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে দুই দিনের সফরে যাবেন।

সূত্র: বিসিবি