পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দী অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং তার ওপর চলা নির্যাতন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি ইমরান খানের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারকে প্রকাশ্যে ও সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেমিমা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান চরম শাস্তির শিকার হচ্ছেন। দুর্নীতির মামলায় ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) এই শীর্ষ নেতা।
এক্সে দেওয়া পোস্টে জেমিমা লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্য আর কতদিন চুপ থাকবে? তিন বছর ধরে আমার দুই ছেলের বাবা এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। জাতিসংঘের ভাষ্যমতে এটি চরম নির্যাতনের শামিল, যা এখন তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রভাব ফেলছে।’
ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে জেমিমা বলেন, গত প্রায় ১০ মাস ধরে পরিবারের কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বই পড়া, আইনজীবী ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও তাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের ‘নেলসন ম্যান্ডেলা নীতিমালা’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, কোনো বন্দীকে টানা ১৫ দিনের বেশি নির্জন কারাবাসে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা নির্যাতনের আওতায় পড়ে। অথচ ইমরান খান বিগত তিন বছর ধরে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি ‘মানবাধিকার সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর এবং আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সরকার সেই নির্দেশনা অমান্য করে তাকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিমস) ভর্তি করে। আদালতের এই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে পিটিআই, যা এখনো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সংযোগের কথা তুলে ধরে জেমিমা জানান, তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও সেখানকার ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানে একটি দাতব্য ক্যানসার হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। জেমিমা ও ইমরানের দুই ছেলে সোলাইমান ও কাশিম ব্রিটিশ নাগরিক হলেও বাবার অসুস্থতার সময়ে তারা পাকিস্তানে যেতে পারছেন না। তাদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাকিস্তান একটি কমনওয়েলথভুক্ত দেশ উল্লেখ করে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জেমিমা বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে এখন প্রকাশ্যে এবং স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। পাকিস্তানের নিজস্ব সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে চলা, ইমরান খানের চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি নির্জন কারাবাসের অবসান এবং তার মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখার দাবি জানাতে হবে।’