যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন ইউক্রেনকে ‘ধ্বংস' করে দেবে: জেলেনস্কি

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন হলে ইউক্রেন 'ধ্বংস' হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট চলেদিমির জেলেনস্কি। রবিবার সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেনীয়দের মধ্যে বিভাজন তৈরি হতে পারে।

জেলেনস্কির এ বক্তব্য যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের দাবিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, যদি ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে হয়, তাহলে এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনের পথে এগোনো যেতে পারে। জেলেনস্কির কথায়, যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হবে রাষ্ট্রের জন্য ‘সুনামির মতো’। এ দেশ বিভক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, তার কৌশল হলো যুদ্ধের সমাপ্তির দিকে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখাও তার লক্ষ্য।

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আইনত নিষিদ্ধ ইউক্রেনের আইনে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি নেই। এ ছাড়া বিশ্লেষকেরাও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ ইউক্রেনের লাখ লাখ নাগরিক দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অনেকে আবার রাশিয়ার দখল করা এলাকায় রয়েছেন, আর বিপুলসংখ্যক মানুষ রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে রয়েছেন। ফলে তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

অধিকাংশ ইউক্রেনীয় যুদ্ধ শেষে নির্বাচন চান জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। তার অনুমোদনের হার প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে জনমত জরিপকারীরা বলছেন, ইউক্রেনীয়দের একটি অংশ রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চাইলেও এই মুহূর্তে নির্বাচনে আগ্রহ কম। গত ৫ আগস্ট কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির এক জরিপে দেখা যায়, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

জেলেনস্কি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারলে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এ ধরনের কোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের দাবি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে জেলেনস্কির বক্তব্যের আগে বিষয়টি সামনে আনেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। গত সপ্তাহে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুদ্ধকালীন নির্বাচনের দাবি তোলেন। এর আগে গত মাসে তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার অপসারণকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছিল। তবে পরে ফেদোরভকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীদের একাংশ তার নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সমর্থন দিতে পিছিয়ে যায়। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনের কোনো বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের এটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তবে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে ফেদোেরভ নিজে প্রার্থী হবেন কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

এদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, আসছে সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ৩ লাখ নতুন সেনা নিয়োগ দিচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার পর শুরু হবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। রবিবার রাজধানী কিয়েভে এক মত বিনিময় সভায় জেলেনস্কি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীতে নতুন ৫ লাখ সেনা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। প্রস্তাবিত এই ৫ লাখ সেনার মধ্যে ৩ লাখকে নিয়োগ দেওয়া হবে সেপ্টেম্বরে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে সৈন্য সমাবেশের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে এই সেনাদের। সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্যের দৃষ্টি এড়াতে বড় শহরগুলোতে সেনা সমাবেশ করার কোনো পরিকল্পনা নেয়নি তারা। কিন্তু যে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সফল হবে বলে আমরা মনে করি না।