বন্দিদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বন্দিদের অনিয়ন্ত্রিত যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় অনিয়ন্ত্রিত যৌন কামনার চিকিৎসা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু বন্দির মনে সবসময় বিকৃত যৌন চিন্তা ঘুরপাক খায়। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যে মূলত দুই ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। একটি হলো বিষণ্নতার ওষুধ, যা অতিরিক্ত কামনার তাড়না কমায়। অন্যটি হরমোন কমানোর ওষুধ, যা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

বিশিষ্ট ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক বেলিন্ডা উইন্ডারের মতে, এই চিকিৎসায় অনেক অপরাধী আবার স্বাভাবিক মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতা ফিরে পান। তবে রাগ, ক্ষোভ বা মাদকের প্রভাবে অপরাধ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয় না।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের চিকিৎসার বিভিন্ন রূপ দেখা যায়। ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে বন্দিরা শুধু নিজেদের ইচ্ছায় স্বেচ্ছায় এই চিকিৎসা নিতে পারেন। জার্মানিতেও গোপন চিকিৎসার মাধ্যমে বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন পুরুষদের সহায়তা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে পোল্যান্ড, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার মতো জায়গায় কিছু অপরাধীর জন্য আইন করে বাধ্যতামূলকভাবে রাসায়নিক চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও অপরাধীদের জামিনে মুক্তির শর্ত হিসেবে এমন থেরাপি দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের হাতে রয়েছে।

যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো প্যারোলে মুক্তির শর্ত হিসেবে এই ওষুধ সেবনের নিয়ম চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই পদ্ধতিটি নতুন নয় এবং এর ইতিহাস বেশ জটিল।

১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে সমকামী পুরুষদের জেল খাটা থেকে রেহাই পাওয়ার বিনিময়ে এই থেরাপি নিতে বাধ্য করা হতো। এর শিকার হয়েছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং। তিনি এই পদ্ধতির শিকার হয়ে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেছিলেন।

তাছাড়া হরমোন কমানোর এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশ মারাত্মক। এর ফলে শরীরে চরম ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, পেশি হ্রাস এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, এই ওষুধ মূলত শারীরিক প্রবণতা কমালেও অপরাধমূলক মানসিকতা পুরোপুরি দূর করতে পারে না। ফলে কেবল ওষুধ সেবনের শর্তে জামিন প্রদান কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নৈতিক প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েই গেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান