২০০ কোটির পথে ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপন ২’

দীর্ঘ ১৯ বছর পর ‘আওয়ারাপন’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরেই বক্স অফিসে পুরোনো জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইমরান হাশমি। মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘আওয়ারাপন ২’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯৩ কোটি রুপি আয় করেছে। ফলে ২০০ কোটি রুপির মাইলফলক থেকে আর মাত্র ৭ কোটি ২০ লাখ রুপি দূরে সিনেমাটি।

বক্স অফিসের হিসাবে, ‘আওয়ারাপন ২’ এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১৯২ কোটি ৮০ লাখ রুপি আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতের বাজারে সিনেমাটির নেট আয় ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি এবং গ্রস সংগ্রহ ১৬২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। বিদেশের বাজারে দশম দিনে সিনেমাটি আয় করেছে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি। সেখানে মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ রুপি।

দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে সিনেমাটির আয় কিছুটা কমলেও সপ্তাহান্তে আবার গতি পায়। শুক্রবার ভারতে ৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপি নেট আয় করে ‘আওয়ারাপন ২’। পরদিন শনিবার সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ২৫ লাখ রুপি। রোববার আরও বেড়ে একদিনে ৮ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করে সিনেমাটি।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে ভারতের বাজারে ‘আওয়ারাপন ২’-এর নেট আয় ছিল ১১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহের ধারাবাহিক সংগ্রহের ফলে এখন ২০০ কোটির ক্লাবের দিকে এগোচ্ছে সিনেমাটি।

নস্টালজিয়াই কি সাফল্যের চাবিকাঠি?

২০০৭ সালের ‘আওয়ারাপন’ ছিল ইমরান হাশমির ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। প্রেম, বিরহ ও মেলোডিয়াস গানের আবহে তৈরি সেই সিনেমার আবেগ বহু বছর পরও দর্শকের মনে জায়গা করে রেখেছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সেই আবহের নতুন অধ্যায় নিয়ে আসা ‘আওয়ারাপন ২’ তাই মুক্তির পর থেকেই পেয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

২০২৬ সালের আলোচিত হিন্দি সিনেমাগুলোর তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে ছবিটি। একই সময়ে মুক্তি পাওয়া সানি দেওলের ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর সঙ্গে বক্স অফিস লড়াইয়েও এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে ইমরান হাশমির সিনেমা।

নিতিন কাক্কর পরিচালিত ‘আওয়ারাপন ২’-এ ইমরান হাশমির সঙ্গে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি, শাবানা আজমি, পুরান গাব্বি, সুভিন্দর ভিকি, বিজয়ন্ত কোহলি ও অতুল কুমারসহ অনেকে। বিশেষ চরিত্রে দেখা গেছে শ্রিয়া শরণ ও শাদ রন্ধাওয়াকেও।

তবে সিনেমাটি নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি পসিটিভ নয়। ধীরগতির প্রথমার্ধ, কিছুটা অনুমানযোগ্য গল্পের মোড় এবং দুর্বল খলনায়ক নিয়ে সমালোচনা থাকলেও প্রশংসা পেয়েছে ইমরান হাশমির অভিনয়। পুরোনো ‘আওয়ারাপন’-এর আবেগ, গান এবং ইমরানের উপস্থিতিকে ঘিরে দর্শকের নস্টালজিয়াই নতুন সিনেমাটির বক্স অফিস সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।