দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের হোটেলে পচা খাবার ও তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগ

দিল্লির অ্যারোসিটিতে ব্রিকস সম্মেলনের জন্য তালিকাভুক্ত দুই পাঁচতারকা হোটেলে খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুতর লঙ্ঘন ধরা পড়েছে। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) বুধবার (২৬ আগস্ট) পরিদর্শন শেষে আন্দাজ দিল্লি ও জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে।

আন্দাজ হোটেলে কনফেকশনারি সেকশনে ৮৭ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি পাওয়া যায়। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এর পাশাপাশি মেয়াদ শেষ হওয়া স্টিকার লাগানো পাউরুটির প্যাকেট, কেকের বেস এবং পেস্ট্রি এলাকায় মাছি ও তেলাপোকাও দেখা গেছে। রান্নাঘরে নিরামিষ ও আমিষ খাবার আলাদা রাখার নিয়মও মানা হয়নি। দুই ধরনের খাবার কাটার বোর্ড একই পানির পাত্রে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছিল।

জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলেও পরিস্থিতি ভালো নয়। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই ব্র্যান্ডের অধীনে খুচরা কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। পনির, খোয়া, ছানা ও মসলাজাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রীতে উৎপাদকের ঠিকানা ছিল না বা লাইসেন্স নম্বর ভুল ছাপা ছিল। মূল লাইসেন্সও দৃশ্যমান জায়গায় টাঙানো ছিল না।

হোটেলজুড়ে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার মান খুবই খারাপ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তেলাপোকা ও ফল-মাছির উপদ্রব, নোংরা খাদ্য স্পর্শকারী পৃষ্ঠ, ধোয়া ছাড়া রান্নার পাত্র এবং পানের পানিতে ময়লার কণা, সবই নথিভুক্ত করা হয়েছে। ছত্রাক আক্রান্ত আপেল ও পচা টমেটো দিয়ে খাবার তৈরির অভিযোগও উঠেছে। অনেক খাবার ঢাকনা ছাড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পাত্রে রাখা হচ্ছিল। আমিষ-নিরামিষ পণ্য সঠিকভাবে আলাদা না করা এবং সংরক্ষণের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অবহেলার কারণে ক্রস-সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

দুটি হোটেলই আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অতিথিদের অবস্থান ও অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে উল্লেখ করা আছে। এফএসএসএআই জানিয়েছে, সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা ও হোটেলগুলোর সংশোধনী পদক্ষেপ দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: এনডিটিভি