দিনাজপুরে সাবেক শ্রমিক লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও-সংঘর্ষ

দিনাজপুরে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা শেখ বাদশার মুক্তির দাবিতে কোতোয়ালী থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আড়াআড়িভাবে রেখে শ্রমিকরা এ অবরোধ করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানা প্রাঙ্গণে বাদশার সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে গত ৫ আগস্টের একটি মামলায় শ্রমিকনেতা শেখ বাদশাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাত থেকেই দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকেরা। শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনাজপুর শহরের সরকারি কলেজ মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বালুয়াডাঙ্গাসহ শহরের প্রধান প্রবেশপথগুলোতে আড়াআড়ি যানবাহন দাঁড় করিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ বাদশা জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক নেতা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সংবাদ সম্মেলন করে তিনি শ্রমিক লীগের পদ ছাড়েন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের নির্ধারিত সময়। এর মধ্যেই গতকাল রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাদশার অনুসারী শ্রমিকদের অভিযোগ, ১৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে যাচ্ছেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে সরাতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সহযোগিতায় পুলিশকে চাপ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, শেখ বাদশা শ্রমিক লীগের নেতা। তার নামে মামলা থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু কতিপয় শ্রমিক থানা আক্রমণ করে তাকে ছাড়িয়ে নিতে একধরনের মব সৃষ্টি করেছে। সড়ক অবরোধ করে জনভোগান্তি করছে। তারা যেহেতু সরকারি দলের সঙ্গে আছেন, স্বাভাবিকভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তারা ১০ জনের মতো আসেন। তখন শেখ বাদশার লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শেখ বাদশা এজাহারনামীয় তিনটি মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের পর অধিকাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। তবে শ্রমিকদের একটি অংশ থানার গেটে বাস ও ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।