সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রিয়যোগ্য একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল। মারধরের শিকার হওয়ার পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ভইটিকর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মোরসালিন বিয়ানীবাজার থানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জ এলাকার যুবক সাইদুর রহমান ফেসবুকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে ওলিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হেতিমগঞ্জে সাইদুরের কাছে যান কনস্টেবল মোরসালিন। সেখানে মোটরসাইকেলটি পছন্দ হওয়ার পর ‘ট্রায়াল’ দেওয়ার কথা বলে মোরসালিন সেটি নিয়ে গোলাপগঞ্জের দিকে রওনা দেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মোটরসাইকেলের মালিক সাইদুর তার পিছন পিছন যান। পরবর্তীতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ভইটিকর এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মোরসালিনকে আটক করা হয়। এ সময় মোরসালিনের সঙ্গে থাকা ওলিউল ইসলাম দাবি করেন যে তিনি মোরসালিনকে চেনেন না। পরে ক্ষুব্ধ জনতা মোরসালিনকে গণধোলাই দিয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পুলিশ জানায়, সঙ্গে থাকা ওলিউল ইসলাম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।
ঘটনার পরপরই সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক অভিযুক্ত কনস্টেবল মোরসালিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে তাকে এক আত্মীয়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ছবেদ আলী জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিক্রেতার পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে মোরসালিন ছুটি শেষ না করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার আচরণ ও চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় এবং অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অসৎ কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া বিয়ানীবাজার থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিমও কনস্টেবল মোরসালিনের আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।