রাঙ্গামাটিতে হু হু করে বাড়ছে পানি, বাঘাইছড়ির নিচু এলাকা প্লাবিত

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাচালং নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর উপচে পড়া পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পানিতে ডুবে গেছে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু। পর্যটন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

অন্যদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার সময় প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানি ছাড়ার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল।

জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিচু এলাকাসহ, সদর উপজেলাসহ বেশ কিছু উপজেলার নিচু ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে।

বাঘাইছড়ি  পৌরসভার  বটতলী, এলাকার এফব্লক,পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টার পাড়া, মাদ্রাসা পাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি ও প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু পরিবার।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান জানিয়েছেন কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানিতে তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু

বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বিকেল সাড়ে ৪টায় জানান, পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবার স্থানীয় বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি।

কাপ্তাই হ্রদে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত সোয়া ৮টার সময় প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হ্রদে পানির সমতল বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। প্রাথমিক পর্যায়ে স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি উঠিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯,০০০ কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হবে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের (ইনফ্লো) পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে স্প্রিলওয়ে খোলার নির্ধারিত সময় কিংবা পানি ছাড়ার পরিমাণ পরিবর্তন বা বৃদ্ধি করা হতে পারে।

এর আগে শনিবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিতে পানিতে ডুবে গেছে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু। পর্যটন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটক প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদে থাকার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।