ফিফার সবুজ সংকেত পেল কিংস

বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে ফিফা থেকে এক ডজন নিষেধাজ্ঞা আর কোনো ক্লাবের ছিল না। বসুন্ধরা কিংস এক ডজন নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পেরেছে। পরশু রাতে ফিফার ওয়েবসাইটে নিষেধাজ্ঞা ছিল ৪টি। গতকাল সেখানে বসুন্ধরা কিংসের কোনো নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিষেধাজ্ঞা থেকে বসুন্ধরা কিংস মুক্ত। মুক্ত হয়ে বসুন্ধরা কিংস আবার মাঠে ফিরবে সেই আশায় বাফুফে এ ক্লাবটিকে নানাভাবে সুযোগ দিয়ে আসছিল। অবারিত দুয়ার খুলে দিয়েছিল। 

বারবার সময় বাড়ানো হয়েছে, যেন কিংস জরিমানার টাকা শোধ করে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়ে আসে। অন্য কোনো ক্লাব হলে বাফুফেস থেকেই রুঢ় আচরণ সইতে হতো কি না, কে জানে। তবে একবার নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ, উত্তরা এফসি, উত্তর বারিধারা, লিটিল ফ্রেন্ডসসহ ১০ ক্লাবের মধ্যে ৮ ক্লাবই দলবদলের সময়টা ১৫ দিন বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেছিল বাফুফেতে। আর্থিক সংকটে কষ্ট করে চলা এই ক্লাবগুলো কত কাকুতি-মিনতি করেছিল। কিন্তু এক দিনও সময় বাড়ানো হয়নি; ফুটবল অঙ্গনে, বাফুফের ভেতরে সেই পুরোনো দিনের কথা চর্চা করা হচ্ছে। দিন বদলেছে কিন্তু মানুষ বদলায়নি। মুখে মুখে বদলে যায় নিয়ম। 

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা, শিশুর হাতে মাদক এবং গণপিটুনি ইস্যুতে চট্টগ্রাম শিশু আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে কথা বলেছিলেন। এর মধ্যে একটি কথা ছিল 'পুলিশের হাতে আইনের দুই রকম প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।' ফুটবলের আইন-কানুনের দেখভাল করার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, তাদের ক্ষেত্রেও ঐ দায়রা জজের মতো একই প্রত্যাশা সারা দেশের ফুটবল ক্লাবের 'আইনের দুই রকম প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।' 

দুই রকম আইনের প্রয়োগ দৃষ্টিকটু। বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল চাইছিলেন যেসব ক্লাব ফিফার নিষেধাজ্ঞায় আটকে আছে তারা ফিরে আসুক। বসুন্ধরা ক্লাব মুক্ত হয়ে এসেছে। ফুটবলের জন্য এটা একটা ভালো দিক। বড় বাজেটের দল, ৬টা শিরোপা তাদের ঘরে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে ছাড়া লিগটা কি জমবে? মোটেও না। মিষ্টতা থাকবে না, বলাই যায়। তেতো মনে হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কিংসের ফিরে আসায় ফুটবলে পূর্ণতা পেয়েছে।

ক্লাব সুত্রে জানা গেছে ১২টা নিষেধাজ্ঞা কাটাতে নাকি ২৭ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই টাকা ধাপে ধাপে দিতে হয়েছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞায় ভীষণ বিব্রত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক খেলোয়াড় আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলম। মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন, অভিমান ছিল, বরফ গলেছে। আর্জেন্টাইন কোচ, ফুটবলার তারিক কাজী, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার মিগুয়েল, রবসন কিংসে খেলেছেন। রবসন ক্লাব ছেড়ে চলে গিয়ে ফিফায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই রবসন এবার নাকি কিংসে খেলতে চেয়েছিলেন। তাকে না করে দেওয়া হয়েছে। কিংস কর্তাদের ধারণা এত সমস্যার মধ্যে রবসনের ভূমিকা রয়েছে।

কার কী অবস্থান ছিল, তার চেয়েও এখন বসুন্ধরা কিংসের কর্মকর্তারা ফুটবলের দিকে মন দিতে চান। তপু বর্মন, গোলাম জিলানী, মাহবুব হোসেন রক্সিরা ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসানের কাছে ১০ জন বিদেশির তালিকা দিয়েছিলেন সেটা দেখে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ক্লাব। ভুটানের চেনচো খেলবেন, নেপালের দুই ফুটবলার রয়েছেন তালিকায়, সিনিয়র সোহেল রানা, গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ, রাকিব হোসেন, তপু বর্মনরা এবার দল গড়ার কাজে ক্লাবকে সহায়তা দিয়েছেন। বিশেষ করে তপু এবং রাকিবের কথা শোনা যাচ্ছে বেশি। দম বন্ধ করা পরিস্থিতি কাটিয়ে এখন মুক্ত আকাশে কিংস। তাই পরিকল্পনা রয়েছে আগামী মঙ্গলবার অনুশীলন শুরু করা, আর বুধবার তারা খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন করবে।