বিচারককে সাবেক রেলমন্ত্রী

শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আগে ভেবে দেখবেন, যদিও আপনি পারবেন কি না

এক মামলায় জামিন হলে আরেক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এর ভিত্তি কী, সেটি দেখা উচিত বলে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আদালতের কাছে এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালের একটি হত্যা মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর শুনানি হয়।

শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের উদ্দেশে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। তবে এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর পেছনে কী ভিত্তি রয়েছে, সেটিও আদালতের বিবেচনা করা উচিত।’

নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘যিনি দোষী, তার অবশ্যই সাজা হওয়া উচিত। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগের একটি মামলায় আমাকে এখন শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার এজাহারে আমার নাম নেই। তারপরও আমাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো যায় কি না, বিষয়টি আপনি একটু বিবেচনা করে দেখবেন। যদিও আপনার জায়গা থেকে আপনি কতটুকু করতে পারবেন, সেটিও আমি বুঝি।’

আদালত শুনানি শেষে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নূরুল ইসলাম সুজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। 

শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো মামলা

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী মহাসড়ক এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন পারভেজ হাওলাদার। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হাতবোমা নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন পারভেজ। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত পারভেজের মা সেলিনা বেগম ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় নূরুল ইসলাম সুজনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে গত ১৯ আগস্ট আদালতে আবেদন করে পুলিশ। পরে তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং নূরুল ইসলাম সুজন জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে যেতে পারেন। এমন আশঙ্কায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

শুনানিতে নূরুল ইসলাম সুজনের বক্তব্যের সঙ্গে তার আইনজীবীও একমত পোষণ করেন। শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন গণমাধ্যমকে জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সুজনের বিরুদ্ধে এর আগে পাঁচটি হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছিল। ওই পাঁচ মামলাতেই তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।

তার দাবি, একের পর এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইনজীবী বলেন, ‘এই মামলায় বাদী নূরুল ইসলাম সুজনকে সন্দেহ করেননি। এজাহারেও তার নাম নেই। তারপরও রাষ্ট্র তাকে সন্দেহ করছে। বাদী যেখানে তাকে সন্দেহ করছেন না, সেখানে রাষ্ট্র কেন তাকে সন্দেহ করছে-এটাই প্রশ্ন।’

মোর্শেদ হোসেন শাহীন এ ঘটনাকে ‘অদৃশ্য কারণের’ সঙ্গে যুক্ত করে দাবি করেন, নূরুল ইসলাম সুজনকে কারাগারে আটকে রাখার উদ্দেশ্যেই নতুন করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, নূরুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে আগে করা পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পেছনে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘একজন আসামিকে এক মামলায় জামিন দেওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হলে সেটি আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তৈরি করে।’