বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদনটি দেওয়া হয়। এদিকে একই ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ৪২ শিক্ষার্থীর জবাবও যাচাই করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদন ও শিক্ষার্থীদের জবাব পর্যালোচনা শেষে সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৩০ আগস্ট) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন।
তিনি বলেন, সংঘর্ষের প্রকৃত ঘটনা, এর পেছনের প্রেক্ষাপট এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় যাচাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, সংঘর্ষে জড়িত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রশাসনের কাছে এসেছে। বর্তমানে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শিক্ষার্থীদের জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানানোর প্রক্রিয়াও চলছে। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ন্যায়সংগত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এর আওতায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ, অ্যাকাডেমিক ব্যবস্থা এবং আবাসিক হলে থাকার বিষয়ে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ শিক্ষার্থী আহত হন।
এর প্রায় এক সপ্তাহ পর ১ আগস্ট রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরদিন ২ আগস্ট রাতে চার হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
পরপর এসব ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে ৯ আগস্ট চার হলের সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।