মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের পটিয়ায় দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন নসুর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিজানুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। 

এদিকে এ অভিযোগের পর স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পারভেজের কারণে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে পাল্টা দাবি করেছেন নাজমুল হোসেন।

মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তার ঘর ভেঙে ইটের দেওয়াল নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হককে জানালে তিনি পটিয়া থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে এমপি এনাম জানান, তিনি তাদের পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালত ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিকট যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু যুবলীগ নেতা তার পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। 

মিজানুরের দাবি, গত ২৮ আগস্ট রাতে ওসির সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে নাজমুল হোসেন নসু ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

অপরদিকে রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে নাজমুল হোসেন জানান, পারভেজের পরিবারের সঙ্গে তাদের পৈতৃক জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। 

২০১৬ সালে কাগজপত্রের ভিত্তিতে জায়গাটি দখলে নেওয়ার পর থেকেই মামলা, হামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। 
পাশাপাশি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগও করেন নাজমুল। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধার আবেগকে ব্যবহার করে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ও তার পরিবার মামলা হামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এদিকে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেও অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউদ্দিন বলেন, উভয়পক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরস্পরকে ঘায়েল করতে পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া প্রশাসন বিভ্রত।