ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল জামায়াত

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়েছে। ফলে এই আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আবারও দেলাওয়ার হোসেনকে প্রার্থী করেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে তাকে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা করা হয়।

এদিন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম এ ঘোষণা দেন।

জানা যায়, দেলাওয়ার হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দেশের সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। আমরা আশা করি, জনগণ যদি পছন্দ অনুযায়ী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী বিজয়ী হবেন।’

জনগণ বিগত নির্বাচনে উৎসাহের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছিল জানিয়ে আবদুল হালিম বলেন, জনপ্রত্যাশা ছিল জামায়াত নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করবে। কিন্তু মানুষ মনে করে নির্বাচন দৃশ্যত সুষ্ঠু হলেও ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে জামায়াতের বিজয়কে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এসময় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অঞ্চল টিম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুর জেলার সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা আমির ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর এ আসনে উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। এবারও তাকেই প্রার্থী করল দলটি।