অভিযোগ অস্বীকার আইফোন কেনা সেই বাবার

‘সন্তান বিক্রি করিনি, লালন-পালনের জন্যই দিয়েছিলাম’

আইফোনের শখ পূরণ করতে নিজ দেড় বছরের শিশুসন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কেনার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত বাবাকে আটক এবং শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে দেড় বছরের ছেলে মুসাকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও তারা না ফেরায় স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, মারুফ তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন এবং সেই টাকা দিয়ে একটি দামি আইফোন কিনেছেন।

এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। আলোচিত এই শিশুটির সুরক্ষায় প্রশাসনও তৎপর হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে অতি দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। গত রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করা হয় এবং একই দিন রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত মারুফ মুন্সি সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ‘আমি আমার সন্তান বিক্রি করিনি। যাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে সন্তান বিক্রির কোনো চুক্তিও হয়নি। সন্তানটিকে শুধু লালন-পালনের জন্যই তাদের কাছে দিয়েছিলাম।’

টাকা নেওয়ার বিষয়ে মারুফ বলেন, ‘আমার কিছু দেনা পরিশোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই ভেবেছিলাম কিছুদিন পর সন্তানকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসব। সন্তান বিক্রির কোনো উদ্দেশ্যে আমি তাকে দিইনি। একটি কাগজে স্বাক্ষর করেছিলাম, তবে তা এক লাখ টাকা নয়, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিলাম।’ নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে চারদিকে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে এবং তিনি এখন বুঝতে পারছেন কাজটি তার চরম ভুল ছিল।