কিরিচ উঁচিয়ে তরুণের হুমকি, বললেন— ‘আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি’

কুমিল্লার চান্দিনায় তুচ্ছ ঘটনায় মারধরের জেরে ফেসবুক লাইভে এসে অস্ত্র উঁচিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক তরুণ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ‘মেহেদি হাসান’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে হাতে একটি কিরিচ (বড় ছুরি) উঁচিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। এসময় রাজনৈতিক কারণে তার ওপর হামলা হয়েছে এমন দাবি করে তাকে বলতে শোনা যায়, আমি আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি।

পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় আলোচনায় আসা মেহেদী হাসান নবাবপুর ইউনিয়নের আটচাইল গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে।

২ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ওই লাইভ ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। রাজনীতির কারণে আজকে আমাকে মারা হলো রাণীচড়ায় (একটি গ্রামের নাম রাণীচড়া)। তাজুলের ছেলে হোসেন আমাকে বিনা অপরাধে মেরে কিছু রাখেনি, দেখেন আমার শরীরের কি অবস্থা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। রাণীচড়া গ্রাম ও আটচাইল গ্রাম ভাই-ভাই। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকবো, রাজনীতি আসবে আর যাবে। তারপরও আমাকে রাজনীতির কারণে মারা হয়েছে। আপনাদের সবাইকে বলা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা টাইম দিলাম, রানীচড়া গ্রামের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এই ভিডিওটি সবাই দেখবেন, আমার সঙ্গে কি করেছে।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আজ আমি ওপেন বলছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি বিচার না হয়ে আমি মুসলমান, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি মানুষ, আমি তাকে (হামলাকারী) জবাই দিবো। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। রাজনীতি ভাল লাগে। আমি দুর্নীতি করি নাই, চাঁদাবাজি করি নাই। আমি কেন পালিয়ে যাবো দেশ থেকে? যারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করেছে তারা বাইরে চলে গেছে। আমরা কেবল আওয়ামী লীগ দলটাকে ভালবাসি, সাপোর্ট করি। দলে আমার কোনো পদ নাই। আমরা আছি নিজ দেশের মধ্যে, বিনা অপরাধে আমাকে আজ মারা হয়েছে। হে বাংলার মানুষ আপনারা মনে রাখবেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমার বিচারটি না হয় আমি তাকে জবাই করবো।’

ভিডিওটি ভাইরালের পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী গ্রাম রাণীচড়ায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে রাণীচড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে হোসেন মিয়াসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে। তাদের ওই ঝগড়া কেউ বলছেন পূর্ব শত্রুতা আবার কেউ বলছেন উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তবে কী কারণে মেহেদিকে মারধর করা হয়েছে এ বিষয়ে রাণীচড়া গ্রামের কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন নি।

ফেসবুকে কিরিচ উঁচিয়ে হুমকির এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে জানতে চেয়ে মেহেদি হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

চান্দিনা থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।