ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদক স্থায়ী বহিষ্কার

প্রবাসীর পাঠানো স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্তকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক শিবলুর স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ–উর–রহমান লিপকন এই বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়াপ্রবাসী কাউসার হোসেন তার বোনের বিয়ের জন্য এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে দেশে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান। বিমানবন্দর থেকে সেই স্বর্ণালংকার গ্রহণ করেন প্রবাসীর ছোট ভাই মো. সুমন ও তার বন্ধু রোহান। বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হয়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে আসার পর তাদের পথরোধ করেন ছাত্রদল সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ এবং সাধারণ সম্পাদক রুবেল।

অভিযুক্তরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে এবং সঙ্গে বোমা থাকার ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। মারধরের একপর্যায়ে তারা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ আগস্ট ভুক্তভোগী মো. সুমন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিমানবন্দরের ১ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে আল আমিন হোসেন শান্ত ও বিএনপি নেতা আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের মধ্যে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে এক দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আজ সোমবার তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন যে বাদীর সঙ্গে আসামিদের বাইরে আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে। তবে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।