মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের অভিযোগ, যুবকের গলায় জুতার মালা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সুমন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কাষ্টভাঙা ইউনিয়নের কুমারহাটি মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সুমন হোসেন উপজেলার মথনপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন সুমন। এ সময় তিনি অশালীন অঙ্গভঙ্গিও করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর সোমবার সকালে মাদ্রাসার সামনে থেকে তাকে আটক করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে সুমনের বাবা, স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মাদ্রাসায় ডেকে নেওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। একপর্যায়ে তাকে জুতার মালা পরিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাকে ঘোরানো হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

মাদ্রাসার শিক্ষক সামাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই আমরা খবর পেতাম, এক যুবক শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে। আজ তাকে গ্রামবাসী ধরে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে। উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যরা তাকে জুতার মালা পরিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করার সিদ্ধান্ত নেন।’

কাষ্টভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনা শুনে আমি মাদ্রাসায় যাই। ওই যুবক আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জুতার মালা পরিয়ে বের করা হয়েছে।’

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে গ্রামবাসী ওই ছেলেকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে। পরে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে আসেন। এরপর গ্রামবাসী তাকে জুতার মালা পরিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন।’

অভিযোগের বিষয়ে সুমন হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

এ ঘটনায় আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

কালীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’