গত ১৭ বছরে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে জ্বালানি খাতে: শামা ওবায়েদ

গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে জ্বালানি খাতে বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তার দাবি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে বসে পাচার করা অর্থ ভোগ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে দেশের মানুষ সংকটে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই সংকটের বড় একটি অংশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মাঝখানে দেড় বছর দায়িত্বে থাকা সরকারও জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ আজ জ্বালানি সংকটে ভুগছে। অথচ এই খাতে দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।’

বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশের মাটি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ওপর বিপদ নেমে এলে কিংবা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানুষের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় দলটির নেতাকর্মীরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করে গেছেন। কৃষি, শিল্প, কলকারখানা, প্রবাসী আয়, খাল খনন ও মৎস্যশিল্পসহ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশির দশকে এরশাদ সরকারের সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মানুষকে সংগঠিত করেছিলেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, যারা আজ নতুন বাংলাদেশের কথা বলছেন বা নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তাদের মনে রাখতে হবে—দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলনের পর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশের অর্থনীতি সচল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এতে প্রবাসীরাও কষ্টে রয়েছেন। পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সংকটও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, ধৈর্য ধারণ করি এবং সততার সঙ্গে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই এই সমস্যার সমাধান হবে।’

আলোচনা সভা শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি করা হয়।