দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি

সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগালেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলকেও বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন এই ব্যাটার। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ২০৪ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছেন তিনি।

পচেফস্ট্রুমের এনডব্লিউসি ওভালে আগের দিনের ৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ৭৫ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় এদিনও ছিলেন অবিচল। ৩৩৫ বলে ২২টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলেসুযোগের কী দুর্দান্ত সদ্বব্যবহারটাই না করলেন তাওহীদ হৃদয়! দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন এই ব্যাটার। কঠিন সময়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকেও ঘোর বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন হৃদয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ২০৪ রানে অপরাজিত আছেন হৃদয়। পচেফস্ট্রুমের এনডব্লিউসি ওভালে আগের দিনের ৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। ৭৫ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় ৩৩৫ বলে ২২টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে নিজের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে প্যাট্রনস ট্রফিতে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেখানে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন সাবেক ওপেনার বিদ্যুৎ। মাঝে ২৩ বছরে দ্বিশতকের কাছাকাছি গিয়েছেন শুধু জাকির হাসান (ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৭৩) ও জাকের আলি অনিক (পাকিস্তান শাহিন্সেএ বিপক্ষে ১৭২)।

বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের এক অভিজাত তালিকাতেও নাম লিখিয়েছেন হৃদয়। সেখানে তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিম (২০০) ও সাকিব আল হাসান (২১৭)। মুশফিক ও সাকিব যথাক্রমে ২০১৩ ও ২০১৭ সালের বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

৭৫ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন তাওহীদ হৃদয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন জাকের আলী। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দুজনই দলের রান এগিয়ে নেন। সঙ্গে ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকেও ছুটছিলেন তারা। তাওহীদ লক্ষ্যের পথে স্থির থাকলেও জাকের সুযোগ নষ্ট করেন।  

তাওহীদ চার মেরে ১৬৬ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে ১৩ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান। জাকের একই পথে ছিলেন। কিন্তু নতুন বল নেওয়ার পর জাকের পেসার মোরেকির বল উইকেটে টেনে বোল্ড হন ৯৪ রানে। ৬ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাকে। জাকেরের সঙ্গে তাওহীদের জুটি ছিল ১৫১ রানের। 

সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন তাওহীদ ও সাইফ উদ্দিন। তাদের জুটিতে আসে ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিন ৮৭ রানে আউট হলে দিনের খেলা শেষ হয়। বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৪৭১ রান তুলেছে। তাওহীদ অপরাজিত আছেন ২০৪ রানে। এখনও ৪১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে করেছিল ৫১২ রান।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে প্যাট্রনস ট্রফিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সাবেক ওপেনার বিদ্যুৎ। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছরে বাংলাদেশের ‘এ’ দলের কোনো ব্যাটার দ্বিশতকের কাছাকাছি যেতে পারেননি। জাকির হাসান ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৭৩ এবং জাকের আলী অনিক পাকিস্তান শাহিন্সের বিপক্ষে ১৭২ রান করেছিলেন।

বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশি ব্যাটারদের অভিজাত তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন হৃদয়। এই তালিকায় তার সঙ্গী এখন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। মুশফিক ২০০ এবং সাকিব ২১৭ রানের ইনিংস খেলেছেন। বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট ক্রিকেটে বিদেশের মাটিতে মুশফিক ২০১৩ সালে এবং সাকিব ২০১৭ সালে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

তৃতীয় দিনের শুরুতে হৃদয়ের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে ছিলেন জাকের আলী। দুজনই সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ছুটছিলেন ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকেও। হৃদয় শেষ পর্যন্ত নিজের লক্ষ্য পূরণ করলেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন জাকের।

চার মেরে ১৬৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। এর মধ্যে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কা। জাকেরও এগোচ্ছিলেন শতকের পথে। তবে নতুন বল নেওয়ার পর পেসার মোরেকির বলে নিজের উইকেট হারান তিনি। ৯৪ রানে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন জাকের। মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় তাঁর। হৃদয় ও জাকেরের জুটি থেকে আসে ১৫১ রান।

জাকের ফেরার পর পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন হৃদয় ও সাইফউদ্দিন। দুজন মিলে যোগ করেন ১৮৫ রান। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৮৭ রান করে আউট হন সাইফউদ্দিন।

তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। তাওহীদ হৃদয় ২০৪ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের চেয়ে এখনও ৪১ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।