পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দলটির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পৌর এলাকার সদর রোড ও আশপাশে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়। র্যালিটি সিনেমা হল রোড হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্ধারিত উপজেলা পরিষদ চত্বরে যায়।
এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে হাসান মামুন গ্রুপের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। দুই গ্রুপ পাশাপাশি অবস্থান নিলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে গোলাম মোস্তফা গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরের সামনে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করে। এরপর র্যালি নিয়ে স্থানীয় চৌরাস্তা হয়ে সদর রোডের দিকে চলে যায় তারা।
অন্যদিকে হাসান মামুন গ্রুপের উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার হাওলাদারের নেতৃত্বে আরেকটি র্যালি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে কালীবাড়ি রোডের দিকে যায়। র্যালিটি বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় হাবিব রেস্টুরেন্ট ও সামসুর দধিঘর ভাঙচুর করা হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সংঘর্ষের পর হাসান মামুন গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার হাওলাদার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মিজানুর রহমানের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গলাচিপায় বিএনপির মধ্যে দুটি বিবাদমান গ্রুপ রয়েছে। হাসান মামুন গ্রুপের নেতাকর্মীরা তিন দিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির অপর গ্রুপের সঙ্গে জোট হয়ে গণঅধিকার এবং গোলাম মোস্তফা গ্রুপের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালিয়েছেন। এতে হাসান মামুন গ্রুপের অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল ও পটুয়াখালীতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে সংঘর্ষে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা গ্রুপের ১৩ জন আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির।
তিনি অভিযোগ করেন, হাসান মামুন গ্রুপের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার দাবি, সোমবার রাতে হরিদেবপুর শ্রমিক দলের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁশের লাঠি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবারও তারা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই পক্ষের কর্মসূচি ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিয়ে তাদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। পরে আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সংঘর্ষ বাধে। তখন পুলিশ ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।