হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ ও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটনের এই অভিযানের পরপরই ‘কঠোর শাস্তিমূলক’ পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দুই বৈরী দেশের মধ্যে নতুন করে সর্বাত্মক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেন্টকম এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী উল্লেখ করে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জলযান এবং ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত মার্কিন সেনাদের ওপর আইআরজিসির সাম্প্রতিক ব্যর্থ হামলার প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এদিকে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হামলার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের কোনারাক, বন্দর আব্বাস এবং কিশম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন এই সামরিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাৎক্ষণিক বদলা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ‘আগ্রাসনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার জন্য তাদের অনুতাপ করতে হবে।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের হামলাকে অত্যন্ত ‘ব্যাপক ও শক্তিশালী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইরানকে কোনো ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান যদি এই সম্পূর্ণ ন্যায্য হামলার বদলা নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর এর চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও উচ্চমাত্রার হামলা চালানো হবে। তবে সেটাই তাদের ওপর সবচেয়ে বড় হামলা হবে না, মূল হামলাটি এখনও তোলা রয়েছে। আর সেটি শেষ হলে ইরানের ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না!’
পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত নিজ দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিতভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ফ্লাইট চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে ইরান ও তাদের সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও আমেরিকান নাগরিকদের নিশানা করতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে চরম রূপ নিয়েছে। এর আগে গত রোববার দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বিমানবাহিনী আক্রমণ চালালে তার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। রোববারের সেই ঘটনার পর থেকেই ওয়াশিংটন কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল, যা মঙ্গলবারের নতুন এই হামলার মাধ্যমে কার্যকর করা হলো।