প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন, তবে তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি: হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্যই ভারত সফর করবেন। তবে দ্বিপাক্ষিক এ সফরের জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত সময় হলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে। পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি ও সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) আগে সফরটি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা থেমে গেছে এমন ধারণা নাকচ করে হুমায়ুন কবির বলেন, শুধু তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলেই আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটা নয়। আমাদের মধ্যে আলোচনা চলমান ছিল। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এ বিষয়ে ঢাকা তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। এখন আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। দেখা যাক কী হয়। উপযুক্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন।

কার্যক্রমনিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে গত ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার বাতিল করা হয়। দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেয়নি বলে

জানিয়েছিল আয়োজকরা। এ বিষয়ে এক প্রশ্নে হুমায়ুন কবির এটিকে ভারতের একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের কেউই অন্য দেশে সন্ত্রাসবাদ বা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় বা কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেবে না এমনটাই প্রত্যাশা করে ঢাকা। ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে আমরা যেমন ঢাকায় আশ্রয় দেব না। তেমনি আমরা প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে দিল্লি বা ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্য কোথাও আশ্রয় দেওয়া হবে না। ২৯ আগস্টের অনুষ্ঠানটি বাতিলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের চাপের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে না। বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই এসব উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এয়ারক্রাফট ফ্লিটের (বিমানের বহর) সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে নতুন রুট চালু করা সম্ভব হবে না ও ব্যবসা হারাতে হবে। এভিয়েশন হাব হিসেবে রাজস্ব ও যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে হলে দীর্ঘ মেয়াদে এয়ারক্রাফট কিনতেই হবে।