কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও কৃষকদের চাহিদা মেটাতে মরক্কো থেকে ৭০ হাজার টন ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার রয়েছে। দুই ধরনের সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৬৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি টন ডিএপি সারের দাম পড়বে ৮৯৪ মার্কিন ডলার। ৪০ হাজার মেট্রিক টন সারের মোট মূল্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৪০ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকা। কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে।
মরক্কো থেকে সরকারি পর্যায়ে ডিএপি সার আমদানির আগের চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় গত ২৫ জুন নতুন করে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। ওই চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে এবারের ডিএপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মরক্কো থেকে ৫ লাখ ৬০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটি থেকে ২ লাখ টন ডিএপি সার আমদানি করা হয়েছে। নতুন করে ৪০ হাজার টন আমদানির অনুমোদন দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরবরাহ আরও বাড়বে।
একই বৈঠকে সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে আরও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এটি হবে চুক্তির সপ্তম লটের সার আমদানি।
৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানিতে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ টাকা। প্রতি টন টিএসপি সারের দাম পড়বে ৬৬৯ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার। এ ক্ষেত্রেও মরক্কোর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, বুধবারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরক্কো থেকে মোট ৭০ হাজার টন ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ডিএপি আমদানিতে ৪৪০ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং টিএসপি আমদানিতে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে দুই ধরনের সার আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৬৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
কৃষি উৎপাদনের মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে সার আমদানি করে থাকে। মরক্কো থেকে ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানিও এরই ধারাবাহিকতার অংশ।