দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে এবং আরও প্রায় সাড়ে চার লাখ টন পাইপলাইনে রয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সারের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও বিতরণ অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে নোটিশ উত্থাপন করেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। নোটিশের ওপর আলোচনাকালে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, মৃত ব্যক্তি কিংবা অন্য এলাকার বাসিন্দাদের নামে এখনো ডিলারশিপ বহাল থাকার মতো অনিয়ম বিদ্যমান। নিজের নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সারের প্রকৃত মজুত সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে স্পষ্টভাবে বলছি, যাহা বলিতেছি সত্য বলিতেছি, সত্য বলিতেছি এবং সত্য বলিতেছি। এই মুহূর্তে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত আছে। যা গত বছরে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ লাখ টন, তখন কিন্তু ঘাটতি হয় নাই। পাইপলাইনে আছে আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮শ টন।’
নির্দিষ্ট অঞ্চলের সারের জোগান বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে আখতার হোসেনের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্ট মাসে যেখানে রংপুরে ১০ হাজার ৫৯০ টন সার সরবরাহ করা হয়েছিল, সেখানে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে সরবরাহ বাড়িয়ে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন করা হয়েছে। কৃষির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষি নিয়া মিথ্যা কথা কন যায় না। এইটা খাই আমরা। এইখানে মিছা কথা কইলে বড় কঠিন কাম সম্ভব না।’
সার উৎপাদনের সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বহু বছর ধরেই চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয় এবং অন্যান্য সারের স্থানীয় উৎপাদন মাত্র এক লাখ টনের মতো। তবে সামগ্রিক মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।