দেশের ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।
মামলার অন্য আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ‘পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে’ ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করেন।
তাতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। এজাহারে বলা হয়েছে, ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত ওই ট্রাস্টে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহসভাপতি ছিলেন।
দুদক বলছে, তাদের অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তাতে জানা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও ‘বিবিধ’ আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব তোলেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোন ব্যাংক কত টাকা দেবে, তা উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়।
এরপর ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের ভাষ্য।
মামলায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআরবিষয়ক নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
দুদক বলছে, সরেজমিন পরিদর্শনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ‘ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে’ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে ‘প্রভাব বিস্তার করে’ ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ, বিএবির সভাপতি থাকার সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।
সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে এভাবে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকার পরও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।